social Social Stories

শিকড়

সকাল বেলার প্রাত ভ্রমণ সময় টা এক বেশ ইন্টারেস্টিং ভদ্রলোকের জন্যে বরাদ্দ। নিজের জন্যে। অনেক পুরনো ঘটনা মনে পড়ে অনেক সময়।

এরকমই এক ঘটনা।২০০৭ সম্ভবত। তারিখ মনে নেই। তবে আমার জীবনের বেশ important একটা দিন।

সত্যমেব ইন্টারভিউ l আগেরদিন মুসির্দাবাদ গেছি। সারা রাত ৭-৮ টা ছেলে মিলে যা টা বাঁদরামি হয়েছে। পরের দিন সকালে apti টেস্ট। বহরমপুর কলেজে। সত্যমেব ইন্টারভিউ প্যাটার্ন নিয়ে আমার বেশ উচ্ছাসা ছিল। আমার ধারণা ছিল আমি সত্যম ইন্টারভিউ ক্র্যাক করবই। সত্যমেব প্রথমে হত numerical apti তার পর ডাইরেক্ট HR round। আমার অ্যাপটি স্কিল মোটামুটি ভালো ছিল। আর সেই যুগে আমার অনর্গল কথা বলার ক্ষমতা ছিল। আমার ধারণা ছিল HR রাউন্ডে গেলে কোনোদিন চাকরি না নিয়ে ফিরবো না। ভবিষ্যতে সেই অভিজ্ঞতা ও হয়েছে।

এখন বুঝি কথা বলতে পারা মানেই সেটা meaningful কথা হবে এমন টা নয়। বরং উল্টোটাই হওয়ার সম্ভবনা বেশি। যাই হক, পরীক্ষা শুরু। আমার মাত্রা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস সেই দিন আরো একবার আমাকে ডুবিয়েছিল।

দুই ভাইয়ের এখনকার বয়স এত ৫ বছর আগে ছোট ভাইয়ের বয়স কত ছিল তাতে আমি সুন্দর ভাবে অঙ্ক করে বড় ভাইয়ের বয়েসে মার্ক করে চলে এসেছিলাম। পরীক্ষা দেওয়ার সাথে সাথে আমার ফল জানা হয়ে গেছিল। যদিও এর পর বন্ধুরা কলেজের partiality এর গল্পঃ বানিয়েছিল আর কলেজে ঝামেলাও হয়। কিন্তু নিজে স্লিপে catch দেওয়া টাই ভুল তার পর বল একটু মাটিতে লেগেছিল উম্পায়ার টাও আউট দিল এই সব ভেবে লাভ নেই।

মন খারাপ নিয়ে হোটেলে ফিরলাম। টিভি খুললাম। ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানের খেলা চলছে ৩-০ টে ইস্টবেঙ্গল হারছে। আমি বললাম বাড়ি যাবো। বন্ধুরা বললো না থাকতে হবে। আমি জোর জার করে আমার ভাগের হোটেল ভারার টাকা দিয়ে নিচে ক্যান্টিনে এক প্লেট chaw খেলাম। তার পর সোজা স্টেশন।

ট্রেনে দাড়িয়ে আছি। লোলগলায় বসার জায়গা পাওয়া খুব মুস্কিল। অনেক খুন মন মরা ও ক্লান্ত হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে এক অবাঙালি নিত্ত যাত্রী আমাকে তাদের পাশে একটু জায়গা করে দিয়ে বসতে বললো। ২-১ জন বাঙালি ও ছিল তাদের মধ্যে।

কথা শুরু হলো। আমি সব ঘটনা বললাম। অবাঙালি ভদ্রলোক সেদিন বলেছিল। জীবনের শুরু এরকম অনেক ধাক্কাই জীবনে আসবে। তবে সাফল্য একদিন এসেই যাবে কিন্তু আমি জানো আমার শিকড় টা না ভুলি।

Sealdah স্টেশনে নামলাম। রবিবার দিন। বজবজের শেষ ট্রেন ক্যান্সেল। ঢাকুরিয়া গেলাম ট্রেনে। ওখান থেকে থেকে taxi। Taxi newalipur থেকে ভেতরে ঢুকতে চাইছে না। Newalipur থেকে হাটা শুরু করলাম। ফাঁকা রাস্তার সারমেয় গুলো আমার সঙ্গী। রাত দুটো নাগাদ বাড়ি ফিরলাম। আমার অসফল্য নিয়ে কথা শোনানোর জন্যে অপেক্ষা করেও ওত দেরি হওয়ায় আমার বাড়িতে সেই রাত টা ছাড় পেয়েছিলাম।

পরের দিন জানলাম অ্যালভিত অসাধারণ খেলে হ্যাটট্রিক করেছিল দ্বিতীয় হালফে। অনেক টা তার কিছু বছর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর রিয়াল মাদ্রিদের খেলায় বেকহ্যামের মত। তবুও ইস্টবেঙ্গল ৪-৩ হারে।

হটাৎ আজকে ঘটনা টা মনে পড়ার কারণ মহারাষ্ট্র রাজনীতি। উদ্ধব ঠাকরে সাফল্য পেলেও নিজের শিকড় ভুলে গেলেন। পতন অনিবার্য ছিল। ঠিক ভুলের বিচার আলাদা।পুনশ্চ: ঘটনার পরের বছর সত্যম scam ধরা পড়ে। তখন আর ওত দুঃখ ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.